হায়রে ব্যাপক, হোয়রে ব্যাপক… ফ্যান হয়ে গেছি…

fan-story_647_110615112549

এসো ভাঙো। কথায় বলে না ভাঙলে কিছু গড়া যায় না। আপনি নিজেকে কতটা ভাঙতে পারবেন তার উপর ডিপেন্ড করবে আপনার গড়ে তোলা ইমারতের স্থায়িত্ব। আর স্থায়ী ইমারত কেউই বা চায় না! সে আপনার পাড়ার সান্টুদাই হোক বা শাহরুখ খানই হোক। আরে বাবা এরা কেউই তো আর এলিয়েন নয়, মানুষ।

২০১৫ তে “দিলওয়ালে” রিলিজ করবার পর শুধু বক্সঅফিসই নয় ফ্যান অফিসেও যে বিশাল ধস নেমেছে তা কিন্তু শাহরুখ খান নিজেও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন। না হলে সারা ভারতের ডিস্ট্রিবিউটদের লোকসান কমাবার জন্য নিজের কোম্পানির থেকে অর্ধেক টাকা মেটানোর দায়িত্ব নিতেন না। আর সুপারস্টারেরা জানেন কীভাবে তাদের ফ্যান আর ইমেজ ধরে রাখতে হয়! ঠিক আপনি যেমন জানেন বাড়ির প্রিয় লোকটা থেকে শুরু করে পাড়ায় আপনার ইমেজ কিংবা অফিসে বসের মন কিভাবে যুগিয়ে চলতে হয়! আপনিও জানেন, আজ আপনি যা সেটা আপনার এই আশেপাশের মানুষগুলোর জন্যই। আর তার জন্যই তো আপনার প্রিয় মানুষগুলো আপনার ‘ফ্যান’। আর ফ্যানদের কুক্ষিগত করতে যে কোনো পর্যায়েই যেতে পারেন শাহরুখ খান, এটা বুক বাজিয়ে দেখিয়েও দিলেন। ২০০-৩০০ কোটি টাকার বাজার ছেড়ে, আইসল্যান্ড ছেড়ে, গ্রিসের শানদার লোকেশন ছেড়ে, দিল্লীর অলি-গলি আর মুম্বইয়ের সিনেমা নিয়ে পাগলামিকে হাতিয়ার করে নেমে পড়লেন সারা দুনিয়ার কয়েক শো কোটি ফ্যানদের দুর্গ অটুট রাখতে।

আমি জানি না এই রিস্ক এযাবৎ আর কোনও সুপারস্টার নিয়েছেন কিনা নিজের স্টারডমকে ধুলোয় লুটিয়ে ফের আকাশে তুলে নেওয়ার খেলায়। যেমন কিছুদিন আগে নিয়েছিলেন অংশুমান খুরানা “দম লাগাকে হেইসা” ছবিটির কাজ হাতে নিয়ে। যদিও অংশুমানের সেই স্টার-ভ্যালু নেই। তবু চকোলেট বয় ইমেজে অমন মোটা নায়িকার সাথে প্রেম করবার দুঃসাহস তিনি দেখিয়েছিলেন। হয়ত সিনেমা সমালোচকগণ বলবেন, অংশুমানের কিছু হারাবার নেই। আমি ফ্যান দেখে এসে বলবো শাহরুখ খানেরও হারাবার যে আর কিছু নেই তা তিনিও বুঝে গেছেন। তাই এই ঝুঁকি নিতে পেরেছেন।

একটা কথা বলে রাখি। এই লেখার মূল উদ্দেশ্য কিন্তু ফ্যান-এর রিভিউ লেখা নয়। ফলে মূল গল্প আমি বলবো না। যদি না দেখে থাকেন ভরসা করতে পারেন, দেখে আসুন, ১৪০ টা মিনিট নষ্ট হবে না। তবে হ্যাঁ, প্রেমিকা নিয়ে যাবেন না। কারণ সিনেমা চলাকালীন তার কাঁধে মাথা রাখার বা একটু চুমু খাওয়ার ইচ্ছেটাই আপনার চলে যেতে পারে। তারপর হলের বাইরে এসে আপনার চুপচাপ মুখ দেখে যদি তিনি তিনদিন কথা না বলেন তার দায় কিন্তু আপনার। আমাকে দায়ী করবেন না।

একজন অভিনেতার কাছে চ্যালেঞ্জ থাকে, প্রতিদিন নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কার করবার। শোনা যায় অভিনেতারা নিজেকে খুঁজে বের করবার জন্য নানান উপায় অবলম্বন করেন। কেউ অবসরে সারাটা দিন কাটান মেকআপ রুমে। নিজেই নিজের মেকআপ করতে করতে খুঁজতে থাকেন নিজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা নতুন কোনো মুখ। কেউবা ঘুরে বেড়ান একেক প্রান্তে, বিভিন্ন মানুষের মধ্যে, খুঁজে বেড়ান নিজের নতুন সত্তা। ফ্যান দেখতে দেখতে হঠাৎই ইচ্ছে হল জানবার, শাহরুখ খান কী করে খুঁজে পেলেন গৌরবকে? শুধুই আধুনিক মেকআপ? অত্যাধুনিক প্রযুক্তি? ওঁর স্টারসুলভ হাঁটাচলা, কথা বলার ধরণ, টিপিকাল দিল্লীর পাঞ্জাবী টানে হলের মধ্যেও কেউ কেউ বলে উঠলেন, “এ সত্যিই কী শাহরুখ খান?” আবার অন্যদিকে, সেই চেনাজানা স্টার SRK। সিনেমা জুড়ে সমান সমান এই দুই সত্তা। সিনেমায় কিছু আজগুবি দৃশ্য আছে বটে; যেমন অবলীলায় কয়েক মাইল দৌড়ানো, বিশাল উচ্চতা থেকে থেকে লাফালাফি করে মারাপিট, এইসব আর কি! আফটারঅল, বাণিজ্যিক ছবি, বাবা রামদেবও যেখানে প্রোডাক্ট বেচতে নকল রঙের ব্যবহার করে সেখানে শাহরুখ খানের দোষ দিয়ে লাভ কী?

ফ্যান-এর বাণিজ্যিক সাফল্য কী হবে সেটা অদূর ভবিষ্যৎ বলবে। কিন্তু এই সিনেমা যে শাহরুখের ইমারত ভারতীয় সিনেমার জমিতে শক্ত-পোক্ত করে তুললো তা আমি হলফ করে বলতে পারি। আর শেষ কথাটা ভাই, ফ্যান দেখে কালই আমার একবন্ধুকে বলছিলাম, এবার থেকে দুটো কথা চলবেই বন্ধুদের মধ্যে, ‘রয়ন দে, তু নেহি সমঝেগি’, আর ‘… হায় রে ব্যাপক, হোয়রে ব্যাপক ফ্যান হয়ে গেছি’। সে বললো যদি না চলে? আমি কথা দিয়েছি, যদি আগামী বছর পর্যন্ত এই দুটো সংলাপ না চলে আমি “দিলওয়ালে”র থেকেও খারাপ একটা গল্প লিখবো নিজের দায়িত্বে।

Leave a Reply

0 responses to “হায়রে ব্যাপক, হোয়রে ব্যাপক… ফ্যান হয়ে গেছি…”

  1. Reblogged this on Kiriti's and commented:
    গল্পকার বিতান চক্রবর্তীর চোখে শাহরুখ খান-এর “ফ্যান” … পড়ে দেখুন, মজে দেখুন…

  2. বেড়ে লিখেছিস, বিতান। প্রকৃত শিল্পীই পারেন নিজেকে ভেঙেচুরে দেখতে … দেখাতে…

  3. 1sr day 1st show dkhte giyechilam…onk nami somalochok der review o porechi tarpor…kintu apnar lekhata amake nijer theke
    vabte sahajjo korbe…ধন্যবাদ স্যার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *